আক্ষেপ
লাবনী, প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় খুব ভালো একজন বান্ধবী ছিল। সুন্দরী আর ছাত্রী হিসেবেও ভালো ছিল। সম্পর্কটা শুধুই বন্ধুত্বের। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে প্রাইমারীর গন্ডি পার হওয়ার পর আজ পর্যন্ত তাকে দেখে নি। ওই ক্লাস ফাইভ এর বার্ষিক পরীক্ষার শেষ দিন দেখা, এরপর আর তার মুখ দর্শনের সুযোগ হয়নি।
আমাদের পাড়ায় এসেছিল কয়েকবার।বাসায় না থাকার কারনে দেখা হয় নি। বাড়িতে আসলে, বাড়ির মানুষ বলতো, "রিপন, তোর বান্ধবী এসেছিল। তোকে খুঁজছে। পায়নি। "এরকম কয়েক বার হয়েছে।
আমি সাধারণত সারাদিন বাড়িতেই থাকি। ঘোরার অভ্যাস তেমন বেশি না। তারপরেও যদি শুনি কেউ একজন আমাকে বাড়িতে এসে খুঁজে গেছে, আমায় পাইনি। তখন খুব আফসোস লাগে। বিশেষ করে সুন্দরী বান্ধবী বলে কথা।
মান্নান ভূইয়া কলেজ থেকে পাশ করে বের হওয়ার পর, বিভিন্ন কারনে আমার প্রিয় স্যারেরা বেশ কয়েকবার আমাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে স্যারদের সাথে আমি, আমাদের বাড়িতে কখনো দেখা করতে পারি নি। আমি তখন বাড়িতে থাকি না। পোড়া কপাল আমার!
বাড়িতে এসে যখন শুনি খাদেম স্যার,কেয়া ম্যাম, অপূর্ব স্যার, পারু ম্যাম, রউফ স্যার, সুমন স্যার আমাদের বাসায় এসেছিলেন, আমাকে খুঁজেছিলেন। পায়নি। তখন কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে হয়। এটা অবশ্যই আমার অদৃষ্ট। নয়তো কেনো এমন হবে?
ঠিক যেমন, সারাদিন মোবাইলটা হাতে থাকে। কোন কল আসে না। যদিও ভুলে দুএকটা কল আসে তাও সিম কোম্পানির কল। যেইই মোবাইলটা রেখে স্নান করতে যাবো বা টয়লেটে যাবো এসে দেখি " ইউ হ্যাভ ফাইভ মিসড কল"। কপাল।
প্রাইমারিতে পড়ার সময় মাসুদ স্যার (তখনকার প্রধান শিক্ষক) যখন আমাদের বাসায় আসতেন, তখন ভয়ে বাড়ির ত্রিসীমানায় থাকতাম না। যেভাবেই পারতাম, দৌড়ে স্যারের নাগালের বাহিরে চলে যেতাম। এমনকি খড়ের গাদার নিচে লুকিয়েও থেকেছি।
আমার শরীরের ডিএনএ, আরএনএ হয়তো সেই প্রাইমারির সময়ের কার্যকলাপ রেকর্ড করে রেখেছে। তাইতো এখন চেতন হোক বা অবচেতন, স্যারেরা আসার আগেই আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
এই তো কিছুদিন পূর্বে কেয়া ম্যাম আমাদের বাসায় এসেছিলেন। আর আমি তখন ডেন্টিস্টের কাছে অর্ধচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলাম। এইতো দুইদিন আগেও যখন স্যারেরা আসলেন,আমি নাকি ঘুমাচ্ছিলাম। আমাকে কেউ ডেকে তুলেনি । ঘুম থেকে উঠে এই ঘটনা শুনার পর, গুণে গুণে একশ একটা অভিশাপ দিয়েছিলাম ঘুমকে ।
দেখা হোক বা না হোক, কথা হোক বা না হোক, প্রিয় স্যার, ম্যাম আপনারা অন্তরে ধ্রুব সত্য হয়ে বসে আছেন। এক তিল নাড়ানোর ক্ষমতা পৃথিবীর কোন বীর পুরুষেরই নেই।

কোন মন্তব্য নেই