স্মৃতিতে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ফেসবুক গ্রুপের নির্বাচিত লেখাগুলো নিয়েই আমাদের এই আয়োজন

মুগ্ধতা

আমার বন্ধুরা জানে আমি অল্পতেই মুগ্ধ হই। কমই ঘটনা বা জিনিষ আছে যা আমার কাছে খারাপ লাগে। একবার সব বন্ধুরা মিলে ছন্দা সিনেমা হলে গেলাম নায়ক বাপ্পির ছবি দেখার জন্য। শুধু একবার না, সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে প্রায়ই যাই। আমার মত গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করা কলেজের টিচার খুব কমই মনে হয় সিনেমা হলে যায়। তাও আবার বাপ্পির ছবি বলে কথা। ছবির নাম ‘আই ডোন্ট কেয়ার’। সত্যি ছেলেটি কাউকেই মনে হয় কেয়ার করে নি। অন্তত পরিচালককে কেয়ার করলে এমন বাজে অভিনয় করতো না। যাই হোক আমরা ছবিটি দেখা কমপ্লিট করতে পারি নি। এক ঘন্টা দেখার পর অসহ্য হয়ে সবাই বের হয়ে আসে। আমি বেরুতে চাই নি। ৭০ টাকা টিকিট কেটে প্রবেশ করেছি! ভালোই লাগছে ছবিটি। বিশেষ করে নায়িকার নাচ। আহ, কি সুন্দর নাচে অবুঝ মেয়েটি! মুগ্ধ আমি মুগ্ধ! পরে ওদের পিড়াপীড়িতে বের হতে হয়েছে। 
.
মুগ্ধ হতে পারলে যে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা যে মুগ্ধ হয়েছে সেই একমাত্র বুঝতে পারবে। আমাদের চারপাশেই রয়েছে মুগ্ধ হওয়ার অসংখ্য জিনিস। শুধু দেখতে হবে, বুঝতে হবে। লজ্জা পেলে হবে না। মহৎ ব্যক্তিরা লজ্জা পায় না। যারা মুগ্ধ হতে পারে তারা এক প্রকার মহৎ ব্যক্তি।
 “লজ্জা ঘৃনা ভয়,
  এই তিনে নয়।”
.
এইতো আমি মোটামুটি ৩ দিন রায়হান স্যারের কাছে যাই, খুব সকাল বেলা। মুগ্ধ হওয়ার জন্য নয়। ম্যাথ শিখার জন্য। তবে যে গানের পাখি, গান যার কন্ঠ থেকে মাথায় চলে যায়, সে না চাইলেও অবচেতন মন গান গাইবেই। তেমনি স্যারের এখানেও আমি ক্ষনে ক্ষনে মুগ্ধ হই। বলতে দ্বিধা নেই, অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে আসে স্যারের এখানে। আহ, কি রূপ তাদের! দেখলেই মুগ্ধতা ছুঁয়ে যায় হৃদয় জুড়ে। মনটা ভরে থাকে রূপের ঝলকে! বিপরীতে ম্যাথ খাতাটা সারা বছর খালিই পরে থাকে।
.
মাঝে মাঝে রায়হান স্যারের কথায়ও মুগ্ধ হই। সারে চার বছরে স্যার মনে হয় আমায় হাজার দশেক বকা দিয়েছে। সে গুলোতেও লুকিয়ে থাকে মুগ্ধতা। তবে যার কথা শুনলেই মুগ্ধ হতে হয় তিনি হলেন সুভাষ স্যার। কথা দিয়ে যেন স্যার সবাইকে আদর করেন। স্যারের হাসিটা আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটার হাসি থেকেও কমনীয়।  লাজুক কিংবা মেয়েলি নয়; পুরুষালী।
.
আমি কবি মানুষ। তবে সেই কবি না, যারা মিনিটে মিনিটে কবিতা প্রসব করেন। হুমায়ুন আজাদ স্যার বলতেন, “ইতররা বিয়োয় বেশী।” কবিতা খুব কম লিখি। তবে আফসোস বা দুঃখ যাই বলেন না কেনো, আমার কোন কবিতাই আমাকে মুগ্ধ করতে পারে নি। যত সব সৃষ্টিছাড়া উৎপাত জন্ম দিয়েছি।
.
আমার কবিতার একজন বিরাট মাপের পাঠিকা আছে। যাই লিখি, অখাদ্য-কুখাদ্য উনি বলবেন, “খুব সুন্দর হয়েছে! তুমি কেমনে লেখো এগুলো?” 
.
আমার কবিতার সেই পাঠিকা তিন সত্যি বলেও মিথ্যা বলতে রাজি। তার এই মুগ্ধতা যতটা না আমার কবিতার প্রতি তারচেয়ে সহস্র গুণ আমার প্রতি।
.
মুগ্ধ হওয়ার জন্য আমি ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকতেও পিছপা হইনা। আইয়ুব বাচ্চুর মতো বলতে পারি, “আমি মুগ্ধ হতে ভালোবাসি, তাই তমাল তলায় ছুটে আসি।” আমার জন্য তমাল তলা এক আশীর্বাদ সরূপ। হরেক রকম মুগ্ধতা চারিদিকে ঘুরে বেড়ায়। হাটু অব্দি প্লাজু পড়া মুগ্ধতা গুলোকে দেখলে আমি গলে পরি। তাকিয়ে থাকি আর মুগ্ধতা অনুভব করি। খারাপ কিছু নই।
  “নানান জিনিস নানান ভাবে
    শিখছি দিবা রাত্র।”
.
ইদানীং মুগ্ধ হওয়ার নতুন একটা সাবজেক্ট পেয়েছি। প্রয়োগে ফলও পাচ্ছি। কলিকাতা হারবালের মত দৃঢ় কন্ঠে বলার মতন ১০০% গ্যারান্টি। ফটোসেশন। আমাদের বাসার কাছেই তিনটি ব্রিজ রয়েছে। দুটি রেল ব্রিজ আর একটি নরমাল। তিনটি ব্রিজ পাশাপাশি থাকার ধরুন চমৎকার এক মুগ্ধ বিকাল পাওয়া যায় শেখানে। প্রতি বিকালেই বসে ছবি তোলার মেলা। কি কিউট কিউট মেয়েরা আসে ছবি তুলতে! দেখে শুধু মুগ্ধ হই।
মাথার চুল মোটামুটি কম। তবে আবুল হায়াত না। তাই চুল ওয়ালা কোন ছেলেকে দেখলেই মুগ্ধ হই। কি যেন কাটিং, হানি সিং নাকি পানি সিং যেন, খুব সুন্দর লাগে। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি।
.
সুভাষ দার বিয়ে নিয়ে খুব এক্সাইটেড ছিলাম। দাদার বিয়ে বলে কথা! আনন্দ করবো, মুগ্ধ হবো। কিন্তু বিয়েতে যাওয়ার আগে যতটা উৎফুল্ল ছিলাম যাওয়ার পর ততটাই মিয়য়ে গেলাম। চারিদিক শুধু ছবি তোলার হিরিক। মুগ্ধতার বদলে হতাশা। তবে খাওয়ার সময় মুগ্ধ হলাম ঠিকই। পাশের মেয়েটিকে না চিনলেও সুন্দর ছিলো খুব। তার খেতে ব্যাঘাত না ঘটলেও আমার ঘটেছিল খুব। মুগ্ধতা বলে কথা। 
.
মুগ্ধতা এক স্বর্গীয় সুখ এনে দেয় মনে। শুধু খারাপ ভাবে দেখা বা শুনা থেকে বিরত থাকলেই হলো।
-------রিপন চন্দ্র বর্মন 


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.