যাদেরকে দেখতে মন চায় : পর্ব ২
নির্দ্বিধায় বলতে পারি জীবনের স্বর্ণালী মুহূর্ত গুলো ফেলে এসেছি সেই আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া কলেজের আঙিনায়, ক্লাসে, বেঞ্চে ও বাহিরের কালো পিচঢালা পথে। এইতো দুইদিন পূর্বে কলেজে গিয়ে স্মৃতির নস্টালজিয়ায় বারবার হারিয়ে যাচ্ছিলাম অতীতের অতল গহ্বরে। মনে মনে গুনগুন করছিলাম এই সেই কলেজ, এই সেই আঙিনা, এই সেই বারান্দা যেখানে আমি আমার জীবনের সোনালী দিনগুলো ফেলে গিয়েছি।
আমি আগের লেখায় স্মৃতির পাতা থেকে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের নিয়ে লিখেছিলাম। আজ কিছু বান্ধবীদের নিয়ে লিখছি। শুধুই জীবনের স্মৃতি মন্থন করার জন্য লিখছি। কাউকে হেয় করা বা ছোট করা বন্ধু হিসেবেই কখনোই আমি করতে পারিনা।
প্রথমেই বলতে হয় 'পলির' কথা। মেয়েটা খুব চঞ্চল ছিল। তাই সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও ছিল। কিন্তু কলেজ ছাড়ার পর আর দেখা নাই। মাঝে মাঝে ফেসবুকে দেখি। মেসেঞ্জারে নক করতে সাহসে কুলায় না। পরিবর্তন হতে কতক্ষন! এখন মনে হয় কোন প্রাইমারি স্কুলের জব করে।
পলি আর শিমুল ছিল হরিহর আত্মা। দুজন সব সময় একসাথে থাকত। একসাথেই বসতো। সেই শিমুল বলতে এখন মনে হয় কিছুই অবশিষ্ট । আজ অন্য এক শিমুল। আমি তার চরম শত্রুদের একজন। নরসিংদী কোথাও ভুলে চক্করে সামনে পরে গেলে দুই মাইল দূরে অন্য রাস্তা দিয়ে যাবে। কিন্তু আমার সামনাসামনি; নৈব চ!
সে আমার খুব ভালো একজন বন্ধু ছিল। আমার তরফ থেকে আজও আছে। শিমুল কলেজের কোনো অনুষ্ঠানে কখনোই অংশগ্রহণ করেনি। আমাদের অনুরোধ, স্যারদের অনুরোধ কখনোই কাজ হয়নি। হ্যাঁ, হয়েছিল কলেজ জীবনের শেষদিকে। একটিমাত্র গানের কলি গেয়েছিল, 'আয় সখি লজ্জাতে চল ঘাটে চল। '
ওদের আরেক বান্ধবী ছিল আন্না। প্রায় পাঁচ ছয় বছর হবে দেখা হয় না। তবে কয়েক বছর আগে একবার কথা হয়েছিল। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর আমাকে কল দিয়েছিল। কল দিয়েই কান্না। তার বিয়ের পরের দিনই তার বাবা মারা যায়। মানুষের দুঃখে আমি কখনোই কাউকে শান্তনা দিতে পারিনা। সেদিনও পারিনি।
পুতুলের মতই ছোট্ট মেয়ে ছিল পুতুল। হ্যা, নামই তার পুতুল। HSC পরীক্ষার পর পুরাতন পুতুলের মত টুপ করে হারিয়ে গেল। মাঝে একবার হাসনাবাদ বাজারে দেখা হয়েছিল। তেমন কথা হয়নি।
মানবিকের বান্ধবী ছিল রেখা। সম্ভবত আব্দুল্লাহপুর তাদের বাড়ি। বাড়িতে গিয়েছিলাম একবার । অসম্ভব নিরিবিলি ও সুন্দর গোছানো ছিল পরিবেশ। অন্যান্য বন্ধুদের এইচএসসির পর একবার দুইবার দেখলেও রেখাকে আর দেখিনি। আজ অব্দি না। রেখা, তুই এই গ্রুপে থাকলে সারা দিস।
মনোয়ারা নামের বান্ধবীর বাসা ছিল লক্ষীপুরা। রক্ষণশীল স্বভাবের ছিলো মেয়েটা। কিন্তু কিভাবে যেন আমার সাথে বন্ধুত্ব হয়। বড় ভালো ছিল। এখন কোথায় আছে, কিভাবে আছে কিছুই জানি না।
'সীমা লংঘন করা উচিত না। সব সময় সীমার ভিতর থাকতে হয়। মনে রাখতে হবে সব কিছুরই একটা সীমাবদ্ধতা আছে।' এসব কথা বলে 'সীমাকে' রাগাতাম। তার সামনে গিয়ে এসব বলতাম। আজ ইচ্ছে থাকলেও বলা সম্ভব না। সেই সীমা আজ সীমার বাইরে। কলেজ ছেড়ে চলে আসার পর আর দেখিনি।
(এই গ্রুপে আমার প্রিয় বান্ধবী আছে। যদিও সে কলেজের ছাত্রী না, শুধুমাত্র আমার লেখা পড়ার জন্য এই গ্রুপে আছে। আমি জানি এই লেখা পড়ার পর সে সারা দিন জ্বলবে। তাকে বলতে চাই, ওরা আমার বন্ধু ছিলো। আর কিছু না।)
চলবে……………………

কোন মন্তব্য নেই