যাদের দেখতে মনে চায়
ইন্টারমিডিয়েটের পাট চুকিয়েছি সেই 2011 সালে। আর আজ 2020 সাল। মাঝ দিয়ে কেটে গেছে প্রায় ৮/৯ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক নতুন বন্ধু হয়েছে। অনেক কিছুই নতুন করে জানা হয়েছে। হরেক কিসিমের, হরেক ডিজাইনের, হরেক রঙের সহপাঠী, বন্ধু পেয়েছি। মিশেছি, জেনেছি আর অন্তর দিয়ে বুঝেছি। কিন্তু আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ার সময়কার বন্ধুদের, সহপাঠীদের সহচর্য ভুলার ক্ষমতা আজও তৈরি হয়নি।
স্নাতক চার বছর আর স্নাতকোত্তর এক বছর মিলিয়ে জীবন চলার পথে কম সময় পার করি নি। হাতেগোনা কয়েকজন প্রিয় বন্ধু ছাড়া বন্ধু বলতে আসলেই নেই। সত্য কথা কি, নরসিংদী সরকারি কলেজে আমাদের অনার্স-মাস্টার্স মিলিয়ে ক্লাস হয়েছে বড়জোর ১০০ দিন। অনেক পরিচিত সহপাঠী আছে বা ছিল যাদের শুধু পরীক্ষার হলে দেখতাম। বছরে শুধু পরীক্ষার সময়। এতেই আন্তরিকতা তৈরি হতো।
কিন্তু মান্নান ভূঁইয়ার কলেজে পড়াকালীন দুই বছরে কলেজের ক্লাস মিস করেছি খুব কমই হবে। তাই সবার সাথে খুব ভালোভাবে পরিচিত ছিলাম। সবার সাথে মিশতাম। কি বিজ্ঞান, কি মানবিক! সবাই বন্ধু ছিল।
কলেজ ছেড়ে আসার পরও অনেক বন্ধুদের সাথে নিয়োমিতই দেখা হয়। কথা হয়। নয়তো ফেসবুকে তাদের চাঁদ বদন দেখতে পাই হরহামেশাই। তবে কিছু কিছু বন্ধু ছিল, যাদের কলেজ ছেড়ে আসার পর আর দেখিনি। কোনভাবেই না। ফেসবুকেও না। ফোনেও কথা হয়নি কোনদিন। কিন্তু তাদের কথা মনে আজও শক্ত স্থান নিয়ে বসে আছে। সরাবার কোন জো নেই।
হারিয়ে যাওয়া সেই সব বন্ধুদের কথাই আজ লিখতে বসেছি। বলাবাহুল্য, যে সকল বন্ধুদের সাথে দেখা হয়, কথা হয় কিংবা ফেসবুক বন্ধু তালিকায় আছে তাদের নাম এখানে লিখছি না।
এরকম হারিয়ে যাওয়া বন্ধু, সহপাঠি যাই বলি না কেন, সুব্রত সূত্রধরের নাম প্রথমেই নিতে চাই। আমাদের সেশনে শুধুমাত্র আমরা তিনজন ছিলাম হিন্দু। সুব্রত, রাজিব গৌড় আর আমি। তাই তাদের সাথে এক প্রকার আলাদা একটা হৃদতা ছিল। কিন্তু কলেজ থেকে বের হওয়ার পর সুব্রত সূত্রধরের আর দেখা নেই।
রায়পুরার হাটুভাঙা থেকে আসতো দুলাল আর জাহিদ। জাহিদকে ফেসবুকে প্রায়ই দেখি। সুন্দর সুন্দর ছবি দেয় টাইমলাইনে। কিছুদিন পূর্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চাকরি পেয়েছে। কিন্তু দুলাল? কলেজ শেষে তাকে আর কোথাও দেখিনা। না বাস্তবে না ফেসবুকে। বন্ধুটা কলেজে বা ক্লাসের বেশ সরবই ছিল।
আমাদের সেশনে জাবেদ ছিল দুইজন। একজন ফর্সা আরেকজন কালো। ফর্সা যাবেদকে আমরা হোয়াইট জাবেদ ডাকতাম। ওই হোয়াইট জাবেদ সেই যে গেল আর এলোনা। সম্ভবত হাইরমারা ছিলো বাসা। ভালো ছাত্র ছিলো। পরে কি হলো আজ পর্যন্ত জানতে পারলাম না।
ডৌকারচর এর বন্ধু ছিল আরিফ। গায়ের রং কালো হলেও বন্ধু ছিল সাদা মনের মানুষ। ব্যবহার ছিল মিষ্টি। মিষ্টি মানে খুব মিষ্টি। সবাইকে দোস্ত বলেই ডাকতো। তার মুখে দোস্ত ডাক শুনলে, অতি পাষাণ হৃদয় গলে হবে জলবৎ তরলং। কিন্তু সেই দুস্তের আর কোন খবর নেই।
বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল তাজুল। খুব দুরন্ত আর মেধাবী। সম্ভবত পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি করে। বন্ধুর সাথে প্রথম দিকে কয়েক দিন ফোনে কথা হলেও বেশ কয়েক বছর হলো কথা বলা হয় না। এমনকি ফেসবুকেও দেখিনা।
------------------চলবে।

কোন মন্তব্য নেই