স্মৃতি কথা ০১
আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে যখন পড়তাম তখনকার কিছু টুকরো স্মৃতি মনে আজও ভেসে ওঠে একান্ত অবসরে। আমি আমার ফোনের নোট অপশনে সেগুলো অল্প অল্প করে লিখে রাখি। যখনই যা মনে হয়। এখন জমতে জমতে ক্ষুদ্র লতাগুল্ম মহীরুহের আকার ধারণ করেছে। সেই দিনের সেই হাসি-ঠাট্টা, পড়াশোনায় স্বর্ণালী দিনগুলি তুলে ধরছি ক্রমান্বয়ে ।
আনন্দের রং কখনো বদলায় না। আনন্দ কালোত্তীর্ণ। তবে এর ধরণ পাল্টায় ক্ষণে ক্ষণে। মনে মনে। হয়তো এখনকার আনন্দ আমাদের সময়কার খুব পানসে মনে হয়েছিল। আবার আমাদের সময়কার আনন্দ এখন খুবই বিরক্তিকর মনে হতে পারে। তবে বললাম যে আনন্দের রং কালোত্তীর্ণ। তাই সে সব কিছু কথাই আজ লিখছি। এখানে এমন কোথাও থাকতে পারে যা সকলের হজম করতে কষ্ট হবে। তাই আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এবং বলছি " সাধু সাবধান।"
কলেজের প্রথম দিনেই আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল। প্রথম দিন মানে আমার প্রথম দিন। কারন একাদশ শ্রেণীর পরিচিতিমূলক ক্লাসের দ্বিতীয় দিন আমি প্রথম গিয়েছিলাম। গিয়ে শুনি আগের দিন সবার সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করেছে। এক বালতি আফসোস হয়েছিল সেদিন। ইস, একদিন পরে আসার কারণে ফুল পেলাম না। সে আফসোস আমার মনে আজও রয়ে গেছে।
আমাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছিল কলেজের লাইব্রেরী। এত এত বইয়ের সমারোহ দেখে, সত্যি বলছি রাসেল ভাই, আমি দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সপ্তাহে তিন-চারটা বই আমি ইস্যু করতাম।
সমরেশ মজুমদারের লেখার সাথে আমি কলেজের লাইব্রেরি থেকেই পরিচিত হই। কলেজ লাইব্রেরী থেকে ওনার 'সাতকাহন' বইটা এক সপ্তাহের শেষ করেছিলাম। আর দীপান্বিতার জন্য কান্না করেছিলাম। এখনো কেউ যদি কলেজ লাইব্রেরী থেকে সাতকাহন বইটা নিয়ে পড়ো, তাহলে আমার চোখের এক ফোটা জল পেতেও পারো কিংবা পাবে আমার সরল মনের মমতাময় ঘ্রাণ। আজও সমরেস মজুমদারের 'আট কুঠুরি নয় দরজা' বইটা পড়ছি। পিডিএফ এ।
এত এত বই কিনে পড়ার মত সামর্থ্য আমার এখনো হয়নি। তাই মোবাইলে পিডিএফ বই পড়ি প্রচুর। যে কোন বই যেকোন সময় পেতে সমস্যা হয় না। কয়েক এমবির ব্যাপার মাত্র। কিছুদিন পর একটা ট্যাব কিনব তখন আরো আরামসে আরো ব্যাপকভাবে বই পড়তে পারবো। কিন্তু আগের মত বই হাতে নিয়ে পড়ার সুখানুভূতি পাবো না। তখন এমন এন্ড্রয়েড ফোন ছিলনা। কলেজ লাইব্রেরী থেকেই সকল সুখ নিংড়ে নিতাম।
আমাদের সময় প্রথম চারটে ক্লাস করে ১৫ মিনিটের জন্য বিরতি দিত। তখন স্বপন বাবুর ঝালমুড়ি খেতাম আস্বাদ করে। মনে হতো অমৃত খাচ্ছি। খাওয়ার সময় মাঝে মাঝে মনে হতো এটা খাওয়ার জন্যই হয়তো কলেজে আসি।
স্বপন বাবু কাঁচা জলপাই সিদ্ধ করে দুই টাকা পিস বিক্রি করতো। সেটা যে কত খেয়েছি তার ইয়ত্তা নাই। সেই জলপাই দেখে জিভে এতো জল পড়েছিল যে নায়গ্রা ফলস থেকেও এত জল পড়েনি। এখন স্বপন বাবু কলেজে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কিনা জানিনা, করলে কলেজ টাইমে একদিন যাব। উনার হাতের ঝাল মুড়ি খাবো। জলপাই খাবো।
(চলবে)
-------রিপন চন্দ্র বর্মন

কোন মন্তব্য নেই