স্মৃতিতে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ফেসবুক গ্রুপের নির্বাচিত লেখাগুলো নিয়েই আমাদের এই আয়োজন

হৃদয়ে বেড়ে উঠা প্রেমের ফুল

গুণি জনেরা বলেছেন,”পাথর গললেও নাকি মেয়েদের মন গলে না।” এই কথাটি বিশ্বাশ করতাম সেই মান্নান ভুইয়া কলেজে পড়ার সময় থেকেই। কিছু বাস্তব প্রমান পেয়েছি বলেই বিশ্বাস করছি।

  বন্ধু রুবেল এক মেয়ের মন জয় করার চেষ্টা করছিলো সেই নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই। কিন্তু বিধি বাম। মেয়েটা বন্ধুকে রাস্তায় দেখলে এক কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে আসতো। যদিও কথা বলার দু'একটা সুযোগ আসতো, মেয়েটা চোখ মুখ শক্ত করে দাড়াতো, যেন এই নাকে একটা ঘুসি মেরে বসে।

  এখনো যদি কেউ মান্নান ভুঁইয়া কলেজের অডিটোরিয়াম রুমে কেউ যাও তো প্রত্যেক বেঞ্চে সেই মেয়েটির নাম পাবে।

  আরেক বন্ধু ( নাম বলা যাবে না) পারুল নামের এক মেয়ের জন্য পাগল প্রায় ছিলো। সাইকিয়াট্রিকের সাথে আমার কথাও হয়েছিলো বন্ধুর চিকিৎসা ব্যাপারে। কোন হাসপাতালে ভর্তি করাবো বন্ধুকে সেটা অনেক দিন ভেবেছিলাম।

  কি না করেছিলাম দুই বন্ধু মিলে! এক দিন তো বাজার থেকে ৩টাকা দিয়ে একটা শার্প ব্লেড কিনে পারুলের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম,
"পারুল যদি ভালো না বাসো তো সে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে ফেলবে।"
-তো আমি কি করবো?
পারুলের সহজ উত্তর। নির্লিপ্ত ভাবে রইলো।

আমি বললাম,
একটা নিরাপরাধ কিশোর কে হত্যার জন্য তুমি দায়ী হবে পারুল। ফাসী হবে তোমার।
-হলে হোক। তবুও আমি তাকে ভালোবাসতে পারবো না। তোমার সাথে হলে চিন্তা করতে পারি, কিন্তু তার সাথে না।
আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম, নৈব চ। নৈব চ।

বন্ধু হাত অবশ্য কাটে নি। আর এই ব্লেড হাতে চালালেও কাটবে না। আগেই দেয়ালে ঘসে ভোতা করে নিয়েছিলাম। একটা মেয়ের জন্য তো আর বন্ধুকে মারতে পারি না।

    এলাকার এক হুজুর পরামর্শ দিলো পড়া ফুলে গন্ধ শুঁকালে কাজ হয়ে যাবে। মেয়ে সুর সুর করে তোমার বন্ধুর বশ হয়ে যাবে। যেই কথা সেই কাজ।

    রায়হানকে দিয়ে সাথে সাথে স্টেশন রোডের মালঞ্চ থেকে দুইটা ফুল আনালাম। হুজুর সুরা পড়ে ফুলে ফুঁ দিয়ে দিলেন।

  পর দিন সকাল বেলা ফুল নিয়ে সবাই হাজির কলেজে। আনন্দের বন্যা, সুনামি, টর্নেডো বয়ে যাচ্ছে সবার মনে। আমাদের বন্ধু মহল থেকে কেউ একজন সিঙ্গেল খাতা থেকে নাম কাটাবে। সমস্যা হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টি বাধবে কে? মানে কে ফুলটা পারুলকে দিবে? যথারীতি বলির পাঠা আমাকেই বানানো হলো।

  পারুল তখন সিড়ি দিয়ে দুতালা থেকে নামছিলো আর আমিও সামনে।
বললাম,”
হৃদয়ে বেড়ে উঠা প্রেমের ফুলটি তুমি গ্রহন করো”।

 
  পারুল ফুলটি নিয়ে এমন ভাবে গন্ধ নিলো যে ভাবলাম কাজ হয়ে গেছে।

    কিন্তু কিসের কি সেই মেয়ে আজ অন্যের ঘরণী।  ভেগে গিয়ে বিয়ে করেছে।  শুনেছি একটা বাচ্ছাও নাকি আছে। আমায় অবশ্যি এখন দেখতেই পারে না। নরসিংদী কলেজের তমাল তলার গেইটে আমায় দেখলে সে অনার্স ভবনের গেইট দিয়ে কলেজে ঢুকে।
     
   
        তাই গুনি জনদের কথাই সত্যি। পাথর গললেও গলতে পারে, কিন্তু মেয়েদের মন নয়।

 

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.