স্মৃতিতে আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ফেসবুক গ্রুপের নির্বাচিত লেখাগুলো নিয়েই আমাদের এই আয়োজন

রিপন স্যার

রিপন স্যার

কলেজে শুধু আমার না, আমার সাথের অনবদ্য বন্ধু গুলোর আর যাই থাকুক না কেনো; রিপন স্যারের ক্লাসে দাড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতা কম বেশী সবারই আছে। 

এখন যেমন তোমরা আইসিটি বিষয়ক পড়ো, আমাদের সময় ছিল কম্পিউটার শিক্ষা।  তেমন কোনো কঠিন সাবজেক্ট ছিল না। আজকের আইসিটির তুলনায় 'জলবৎ তরলং'। তারপরও কেন জানি না আমরা বেশিরভাগ ছাত্রই পড়ার শিখতাম না। তার জন্য প্রতিদিনই বাধ্য ছেলের মত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতাম।

রিপন স্যার এমন একজন স্যার ছিলেন যাকে আমি শুধু শুকনো নারিকেলের সাথেই তুলনা করতে পারি। নারিকেলের যেমন উপর দিক দেখে ভিতরের কোমল মিষ্টি পানির অস্তিত্ব অনুধাবন করা যায় না, তেমনি রিপন স্যারের মুখ দেখে কেউই ওনার মনের উচ্ছলতা, হাসি, তারুণ্য আর কোমলতা অনুধাবন করতে পারে না। 

একবার 14 ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে স্যার ক্লাসে ঢুকলে আমরা স্যারকে অনুরোধ করি এই দিবস নিয়ে কিছু বলতে। স্বভাবতই এই দিবস তখন আমাদের সবার মনেই  অন্যরকম ফ্যান্টাসি কাজ করতো। ঐদিন স্যারের সুন্দর কথাগুলো আজও মনের কর্ণকুহরে স্থায়ী আবাস গেড়ে বসে আছে। 

যদি ভুল না বলি, রিপন স্যার কলেজ এর সব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মতন গাইড করেন। কারো বেতন কমাতে হবে? রিপন স্যারকে গিয়ে ধরবো। কারো জরিমানা কমাতে হবে? তাও রিপন স্যার। ফেল করেও প্রমোশন নিতে হবে? রিপন স্যারই সকল শিক্ষার্থী ভরসা। কী মানবিক, কী বিজ্ঞান আর কী ব্যবসায় শিক্ষা সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথেই রিপন স্যারের ছিল এক আত্মিক সম্পর্ক। 

কলেজ থেকে 2011 সালে বের হলেও প্রতিবছর কোন স্টুডেন্ট আমার কাছে মান্নান ভূঁইয়া কলেজে ভর্তির জন্য আসলে, সরাসরি রিপন স্যারের রেফারেন্সে পাঠিয়ে দেই। স্যার কখনোই আমাকে নিরাশা করেননি (ভর্তির ফি এর ব্যাপারে)। ফলে একটি ছাত্রের ভর্তির দিন থেকেই রিপন স্যার তার মনে আলাদা একটি জায়গা করে নেন। 

স্যারের পড়ানোর বিষয়ে মন্তব্য করার দুঃসাহস আমার নেই। স্যারের তুলনা শুধু স্যারই। স্যারের পড়ানোর স্টাইল কেমন তা আমার মতন বোকা গোবেচারা ছাত্রদের রেজাল্ট দেখেই বোঝা যায়। শুধু আমি না আমার সাথের বেশিরভাগ বন্ধুই কম্পিউটার শিক্ষায় A+ পেয়েছিলাম।

আমাদের সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রিয় স্যার ছিলেন রিপন স্যার। আমাদের কোন কিছু দাবী দাওয়া থাকলে তা আগে রিপন স্যারকে জানাতাম, স্যারও  সাধ্যমত চেষ্টা করতেন আমাদের পক্ষ হয়ে কাজ করতে। 

আমি আজও বিশ্বাস করি 2002 সাল থেকে অদ্যাবধি যারাই এ কলেজ থেকে পাশ করে বের হয়েছেন বিভিন্ন জায়গায় কৃতিত্বের সহিত চাকরি করছেন, দেশের সুনাম বয়ে আনছেন অথবা স্বনামধন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন তাদের সবার মনেই স্বমহিমায় জ্বলজ্বল করছে স্যারের নাম।

 ভালো থাকবেন স্যার আজীবন। আপনার জন্য কলেজটাকে আমাদের স্বর্গীয় আঙিনার মতো মনে হতো। কোন দূরত্ব মনে স্থান পেত না।

Published from Blogger Prime Android App

1 টি মন্তব্য:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.